আজ - শনিবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১২ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, (শীতকাল), সময় - রাত ১০:০৮

ডুমুরিয়ায় যুবদল নেতা হত্যায় জড়িত স্ত্রী শ্যালক আটক।

ডুমুরিয়ায় আঠারোমাইলে যুবদল নেতা শামীম হত্যাকাণ্ডে স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সোমবার রাতে খুলনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলতাফ মাহমুদের ২ নম্বর আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দিতে ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি জানায়, শামীমের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক বিরোধ ছিলো। একারণে প্রায় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে হত্যার পরিকল্পনা করে বৃষ্টি। পরিকল্পনা মোতাবেক ঘটনার ৩দিন আগে বৃষ্টি তার মামাতো ভাই ওবায়দুল্লাহ হাওলাদার ওরফে বাদল ওরফে ইমনকে তাদের আঠারোমাইল বাড়িতে ডেকে আনে। ওবায়দুল্লাহ বাগেরহাট জেলা সদরের নোনাডাঙ্গা গ্রামের আজম আলী হাওলাদারের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের আগেরদিন (২১ আগস্ট) বৃষ্টি ওবায়দুল্লাকে স্বামীর সাথে তার বিরোধের বিষয়টি খুলে বলে এবং স্বামীকে খুন করতে পারবে কিনা জানতে চায়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শামীমকে খুন করতে রাজি হয়। এরপর হত্যাকাণ্ডের মূল ছক তৈরি করে স্ত্রী। পরিকল্পনানুযায়ী ২২ আগস্ট রাতে খাবার শেষে শামীম ও তার স্ত্রী তাদের বাড়ির তিনতলার ফাঁকা ফ্লাটে যায়। কিছুক্ষণ পর ওবায়দুল্লাহও সেখানে যায়। এরপর সে ছাদে উঠে বৃষ্টির রেখে দেয়া ধারালো ছোরা নিয়ে পুনরায় তিনতলায় আসে। কিভাবে স্বামীকে খুন করতে হবে তা বৃষ্টি ইশারায় দেখিয়ে দেয়। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ শামীমের ঘাড়ে কোপ দেয়। এতে ফ্লোরে লুটে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় শামীমের। হত্যার পর বৃষ্টি ও ওবায়দুল্লাহ ছাদের উপর উঠে ছোরাটি পাশের জলাশয়ে ফেলে দিয়ে দ্বিতলায় চলে আসে। শামীমকে ফিল্মি স্টাইলে হত্যা করে তার মায়ের সাথে তারা স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলতে থাকে। এরপর মা শামীমের খোঁজ নেয়। বৃষ্টি তখন স্বামীর ফোনে কল দিয়ে মাকে বলে রিসিভ করছে না। এরপর মায়ের কথামত উপরে যেয়ে চিৎকার দেয় স্ত্রী। হত্যার দায়ে স্বীকার করে বৃষ্টির এমন লোমহর্ষক বর্ণনায় আদালত নিস্তব্ধ হয়ে পড়ে। ভয়ংকর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিবরণ শুনে আদালতে উপস্থিত সবাই চুপ হয়ে যায়। রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে অপরাধের দায় স্বীকার করে এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় বৃষ্টি ও ওবায়দুল্লাহ। যা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার অধীনে আদালতে রেকর্ড হয়েছে।

জানা যায়, নিহত শামীম সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। প্রায় ২৫ বছর আগে ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল বাজার এলাকায় সৈয়দ ঈসা কলেজের পাশে শামীমের আব্বা-আম্মা তিনতলা বাড়ি করেন। ওই বাড়ির তিনতলায় ফাঁকা ফ্লাটে প্রতিরাতে শামীমের নেতৃত্বে মাদকের আড্ডা বসতো। গত ২২ আগস্ট রাত পৌনে ১০টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে শামীমকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার দু’দিন পর শামীমের মা রশিদা খাতুন বাদী হয়ে ডুমুরিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে। থানা পুলিশ হত্যার মূল রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা, সিসি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শামীম হত্যার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড শামীমের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি (৩০) এবং বৃষ্টির মামাতো ভাই ওবায়দুল্লাহ (১৭ বছর ৮ মাস) কে আটক করে পুলিশ।

থানা অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা জানান, শামীমের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি এবং শ্যালক ওবায়দুল্লাহ হাওলদারকে গত সোমবার বিকেলে শামীমের বাড়ি থেকে আটক করা হয়। ঘটনার বিষয় পৃথক পৃথক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আসামীরা দোষ স্বীকার করে। পরবর্তীতে রাতে তাদের আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক ১৬৪ ধারার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->