আজ - মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি, (শরৎকাল), সময় - দুপুর ১:২০

ঝিনাইদহে কলেজ ছাত্রের ইজিবাইক চুরি,মা-বাবাকে নিয়ে অসহায় জীবন যাপন।

অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী বাবা, হঠাৎ চাকরি হারিয়ে রোজগার বন্ধ মায়ের—এমন করুণ পরিস্থিতিতে পরিবারের একমাত্র আশার প্রদীপ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কলেজছাত্র পলক মল্লিক। লেখাপড়ার পাশাপাশি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কেনা ইজিবাইক চালিয়েই কোনোমতে টানছিলেন চার সদস্যের সংসারের হাল। কিন্তু যাত্রীবেশী এক সংঘবদ্ধ চোরচক্রের কৌশলে সেই সম্বলটুকু হারিয়ে দুই মাস ধরে চরম অনিশ্চয়তা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি

ভুক্তভোগী পলক মল্লিক ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের এমইউ কলেজপাড়ার জয়দেব মল্লিকের ছেলে এবং সরকারি এমইউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পলক জানান, বাবা দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগে বিছানায় শায়িত। মা একটি ক্লিনিকে কাজ করতেন, তবে বর্তমানে সেটিও বন্ধ রয়েছে। এক বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসাসেবা ও জীবিকা নির্বাহের সম্পূর্ণ ভার পড়ে তাঁর ওপর। নিজের পড়াশোনার খরচ চালানো ও সংসারের অনাহার মেটাতে জমানো কিছু টাকার সাথে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি ইজিবাইক কেনেন তিনি।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পলক বলেন, গত ৪ জুলাই সকালে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে ৩-৪ জন যাত্রী নিয়ে ঝিনাইদহ শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। ঝিনাইদহ শহরের যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে যাত্রী লিটন আলী গাড়ি থামাতে বলেন এবং অন্য যাত্রী সবুজ শেখ নেমে যান। পরবর্তীতে লিটন কৌশলে পলককে রাস্তার মোড় থেকে সবুজকে ডেকে আনতে পাঠায়। পলক সরল বিশ্বাসে কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে ফিরে এসে দেখেন ইজিবাইকসহ যাত্রীরা গায়েব হয়ে গেছে।

ঘটনার পর ঝিনাইদহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। গত ২৩ জুলাই ডিবি পুলিশের অভিযানে আটক ১১ আসামির মধ্যে লিটন আলী ও সবুজ শেখকে নিজের ইজিবাইক চুরির সাথে জড়িত বলে শনাক্ত করেন পলক। পরবর্তীতে ২৯ আগস্ট নাম উল্লেখ করে পুনরায় অভিযোগ দেওয়া হলেও আজ অবধি চুরি যাওয়া ইজিবাইকটি উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

অশ্রুসজল চোখে পলকের মা রূপালী পাল বলেন, “ইজিবাইকটি চুরি হওয়ার পর থেকে আমাদের ঘরে হাহাকার চলছে। আয়-রোজগারের কোনো পথ নেই, অনেক দিন আধপেটা বা না খেয়ে কাটাতে হচ্ছে। একদিকে সংসার চালানো অসম্ভব, তার ওপর আবার এনজিওর সাপ্তাহিক কিস্তির চাপ—আমরা এখন পুরোপুরি দিশেহারা।”

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, ইজিবাইক চুরির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইজিবাইকটির অবস্থান সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট ক্লু মেলেনি। ইজিবাইকটি উদ্ধার ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->