
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় গরু চোর সন্দেহে ক্রুদ্ধ জনতার গণপিটুনিতে নিহত মিজানুর রহমান (৪০) নামের এক ব্যক্তি আসলে একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার।
গত রোববার (৫ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নের বাঘারদাড়ি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হলে পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত মিজানুর রহমান ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বাগচা লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে বাঘারদাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ইদ্রিস আলীর গোয়ালঘরের তালা ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছিল তিনজনের একটি দল। বিষয়টি টের পেয়ে ইদ্রিস আলী ও তাঁর ছেলে শফিকুল ইসলাম চিৎকার শুরু করলে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। গ্রামবাসীর ধাওয়ায় দুজন চম্পট দিতে সক্ষম হলেও মিজানুর রহমানকে ধরে ফেলে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরবর্তীতে বেধড়ক গণপিটুনিতে তিনি গুরুতর আহত হলে গ্রামের কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে, নিহতের সুনির্দিষ্ট পরিচয় নিশ্চিত করে তাঁর চাচাতো চাচা রাজু আহমেদ চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানান, নিহত মিজানুর রহমান জন্মগতভাবেই একজন মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং সরকারিভাবে তাঁর নামে একটি প্রতিবন্ধী কার্ডও ইস্যু করা রয়েছে। তিনি প্রায়শই না বলে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যেতেন এবং কয়েকদিন পর আবার স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসতেন। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই তিনি কখনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি। স্বজনেরা জানান, নিহতের মরদেহ গ্রহণের উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যেই চৌগাছার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।