
দাদির মৃত্যুর সংবাদ শুনে বুকভরা কষ্ট নিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ির পথে রওনা হয়েছিলেন নাতি আশরাফুল। শেষবারের মতো প্রিয় দাদির মুখটি দেখবেন—এই ছিল তার আকুলতা। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, সেই দেখা আর হলো না। পথেই ঝরে গেল তার প্রাণ। হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার রাত ১১টার দিকে যশোরের চৌগাছা উপজেলার দেবুপুর গ্রামে। নিহত আশরাফুল বকশিপুর গ্রামের মমিনুর রহমানের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দাদি সানোয়ারার মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি কর্মস্থল খুলনা থেকে ছুটে আসছিলেন। প্রিয়জনকে শেষবার দেখার তাড়নায় হয়তো পথটাও হয়ে উঠেছিল দ্রুত ও অস্থির। বাকি ছিলো মাত্র আধা কিলোমিটার। কিন্তু দেবুপুর এলাকায় পৌঁছালে তার মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রক্তাক্ত দেহে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জুবায়ের তাকে মৃত ঘোষণা করেন।দাদির মৃত্যুর শোক তখনো ঘরে ঘরে ছড়িয়ে ছিল। সেই শোকের মধ্যেই আরেকটি নিথর দেহ এসে পৌঁছায় বাড়িতে নাতি আশরাফুলের। এক শোক না কাটতেই আরেক শোকে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে পুরো পরিবার। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। যে ছেলে দাদিকে শেষবার দেখার জন্য ছুটে আসছিল, সেই ছেলেকেই এখন দেখতে হচ্ছে সাদা কাফনে মোড়ানো অবস্থায়—এ দৃশ্য যেন সহ্য করার মতো নয়।