
যশোরের কেশবপুর উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের সন্তান বাচ্চু রহমান ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন। একাধিক ব্যর্থতা পেরিয়ে এ সাফল্য অর্জন করায় এলাকায় আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বাচ্চু রহমান উপজেলার কানাইডাঙ্গা গ্রামের নজরুল ইসলাম ও বিলকিস বেগমের ছোট ছেলে। তার বাবা একজন আনসার সদস্য হিসেবে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় কর্মরত এবং মা গৃহিণী। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট।
তিনি কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং পাঁজিয়া মহাবিদ্যালয় থেকে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে বিসিএসের মাধ্যমে পুলিশ ক্যাডারে যোগদানের লক্ষ্য নির্ধারণ করেন।
এর আগে ৪৫তম ও ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সফল হতে পারেননি। পরে স্পেশাল ৪৯তম বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
রাতদিন নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাচ্চু রহমান বলেন, লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন কঠিন হওয়ায় ভালো ফলের বিষয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন না। ফল প্রকাশের পর নিজের রোল নম্বর কয়েকবার মিলিয়ে দেখে নিশ্চিত হন যে তিনি পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন।
তিনি জানান, মানুষের জন্য সরাসরি কাজ করার সুযোগ থাকায় তিনি পুলিশ ক্যাডারকে বেছে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে পিবিআই, সিআইডি অথবা ডিবির মতো তদন্তভিত্তিক ইউনিটে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি ক্রিমিনোলজিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে নারী নির্যাতন, মাদক ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করতে চান।
বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু চাকরি পাওয়ার লক্ষ্য নয়, জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে পড়াশোনা করা প্রয়োজন। নিয়মিত পত্রিকা পড়া, দেশের ইতিহাস, সংবিধান, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ব্যর্থতার প্রসঙ্গে বাচ্চু রহমান বলেন, ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি এবং ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়াই তাকে আরও বেশি পরিশ্রমী হতে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি কখনো হতাশ না হয়ে নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, পদ বা পদবি নয়, একজন সৎ, দক্ষ ও মানবিক পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জন করাই তার প্রধান লক্ষ্য।