আজ - বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি, (শরৎকাল), সময় - দুপুর ১:৩০

যশোরে ৫ লাখ টাকা ও জমি লিখে না দেওয়ায় মা বাবাকে বাড়ি থেকে বেড় করে দিলো ছেলে বউ।

পাঁচ লাখ টাকা নগদ দাবি এবং দুই বিঘা জমি নিজেদের নামে লিখে না দেওয়ায় নিজ গর্ভজাত ছেলে ও পুত্রবধূর নির্মম নির্যাতনে বাড়িছাড়া হতে হয়েছে এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পতিকে। কেবল বাড়ি থেকেই বের করে দেওয়া নয়, অসহায় এই বাবা-মাকে আশ্রয় দেওয়া স্বজন, তাঁদের ভাই-ভাতিজি এমনকি মামাদের বিরুদ্ধেও একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং আশ্রয়স্থলে বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে কুপুত্র ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধ আতর আলী ও তাঁর সহধর্মিণী খয়েরি বেগম বর্তমানে কোনো উপায় না পেয়ে অন্যের জমিতে তোলা একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ভুক্তভোগীদের সুস্পষ্ট অভিযোগ, তাঁদের ছেলে জামাত আলী ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা খাতুন বেশ কিছুদিন ধরে পাঁচ লাখ টাকা এবং দুই বিঘা জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। তাঁদের দাবীকৃত টাকা ও জমি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় বৃদ্ধ বাবা-মাকে জঘন্যভাবে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

আতর আলীর ছোট ভাই অভিযোগ প্রকাশ করে জানান, নিজের বড় ভাই ও ভাবিকে চরম বিপদে আশ্রয় দেওয়ার কারণে এখন তাঁর ও তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে থানায় ভুয়া অভিযোগ ও মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে। উপরন্তু, নিজের ঘর থেকেও আতর আলী ও তাঁর স্ত্রীকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য অবিরাম চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং পথঘাটে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ জীবননাশের হুমকি প্রদান করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনছের আলী জানান, বৃদ্ধ আতর আলী তাঁর ভাইয়ের জমিতে ছোট একটি কুঁড়েঘর তৈরি করে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। সেখানে অন্তত একটি বিদ্যুতের আলো জ্বালানোর কথা বললে পরিবারের সদস্যরা ভয়ে পিছিয়ে যান। কারণ, ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ এনে দিলে ধর্ষণের মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ভুক্তভোগী আতর আলীর শ্যালক তাইজেল ইসলামও রেহাই পাননি; তাঁর বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাইজেল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভাগ্নে জামাত আলী বিদেশে থাকার সময় তার স্ত্রী শাশুড়ি-শ্বশুরকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার উদ্দেশ্যে কথা বলতে গেলে তাঁর বিরুদ্ধেই পরিকল্পিতভাবে মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার চাঞ্চল্যকর মোড় ঘটে মামলার সাক্ষীদের বক্তব্যে। মামলার বেশ কয়েকজন সাক্ষী অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিরোধের মূল বিষয় লুকিয়ে তাঁদের প্রতারণামূলকভাবে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে। ডাকাতিয়া গ্রামের মিন্টু ও রফিকুল ইসলাম জানান, জামাত আলী ও তার স্ত্রী গ্রামের সালিসের কথা বলে কৌশলে তাঁদের কাছ থেকে সাক্ষ্য নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে এ ধরনের পারিবারিক বিরোধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে তাঁরা সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধা খয়েরি বেগম বলেন, ছেলে ও ছেলের বউ কোনো দিন তাঁদের ভরণপোষণ বা খোঁজখবর নেয়নি। উল্টো টাকা ও জমির জন্য অনবরত মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালিয়েছে। বাধ্য হয়ে এখন অন্যের ভিটায় রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে দিন কাটাতে হচ্ছে।

শারীরিক অসুস্থতায় জরাজীর্ণ বৃদ্ধ আতর আলী বলেন, তিনি একা চলাফেরা করতে পারেন না। এ অবস্থায় ছেলে ও পুত্রবধূর একের পর এক মিথ্যা মামলায় আশ্রয়দাতা ভাই ও শ্যালক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ছেলে জামাত আলী ও তাঁর স্ত্রী সেলিনা খাতুনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কুপুত্র ও তার স্ত্রীর এহেন জঘন্য নির্যাতনের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেয়ে শেষ বয়সে একটু শান্তিতে বসবাস করার জন্য ভুক্তভোগী বৃদ্ধ দম্পতি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ ও বিচার প্রার্থনা করেছেন।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->