আজ - মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি, (শরৎকাল), সময় - বিকাল ৪:০৫

মাগুড়ায় গ্রাহক আলেয়া খাতুন বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন ২৩৫ ইউনিট বিল এলো ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অস্বাভাবিক এ বিল দেখে বিস্মিত হয়েছেন গ্রাহক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এ বিদ্যুৎ বিল ইস্যু করা হয়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী।

বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট মিটারের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান রিডিং ৩৯৫। সে হিসাবে এক মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।

তবে এই ব্যবহারের বিপরীতে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ মোট বিলের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।

অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্বাভাবিক বিল হওয়ার কথা প্রায় ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ এর পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫৬ টাকা হওয়ার কথা।

গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয় এবং পরিশোধের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর। বিলে গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ রয়েছে।

গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, এমন অস্বাভাবিক বিল দেখে তিনি বিভ্রান্ত ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিল তৈরির ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল যেন পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

তিনি জানান, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এ অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে। বিলটি দ্রুত সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলাম বলেন, টাইপিংয়ের ভুলের কারণেই এমন অস্বাভাবিক বিল তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->