আজ - মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি, (শরৎকাল), সময় - সকাল ৮:৪৩

যশোর মনিরামপুরে বন্ধুর সাথে নিজের স্ত্রীকে বিবাহ দিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলো মিথুন।

যশোরের মণিরামপুরে স্ত্রীকে নিজের ছোটবেলার বন্ধু ও প্রতিবেশীর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কয়েক দিন পর আব্দুল্লাহ মিথুন হোসেন (২৯) নামে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, মিথুনকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ মিথুনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। নিহত মিথুন নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। মৃত্যুর সময় তার ঘরে সদ্য সাবেক স্ত্রী সাথী (২৫) এবং তাদের ৬ ও ৪ বছর বয়সী দুই ছেলে ছিল।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সাথী খাতুন মিথুনকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ঘরের আড়ায় গামছা দিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন। তবে এ অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে মিথুন ও সাথীর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে রয়েছে। মিথুনের ছোটবেলার বন্ধু ও প্রতিবেশী সুমন প্রায় চার বছর আগে মালয়েশিয়ায় চলে যান। পরে সুমনের সঙ্গে সাথীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বলে স্বজনদের দাবি।

বিষয়টি জানতে পেরে মিথুন স্ত্রীকে ওই সম্পর্ক থেকে ফেরানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর মিথুনের উপস্থিতিতে এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় থাকা সুমনের সঙ্গে সাথীর বিয়ে হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই বিয়েতে মিথুন নিজেই সাক্ষী ছিলেন। বিয়ের পরও সাথী মিথুনের সঙ্গেই একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন।

মিথুনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুবাশশের আল মুবিন জানান, মৃত্যুর তিন দিন আগে তার সঙ্গে মিথুনের দেখা হয়েছিল। তখন তাকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়া অবস্থায় দেখা যায়। বিভিন্ন নম্বরে ফোন করে মিথুন কান্নাকাটি করছিলেন এবং ক্ষমা চাইছিলেন। স্ত্রীকে বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে মিথুন জানিয়েছিলেন। দুই সন্তানের কথা চিন্তা করেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও বন্ধুকে জানান। ওই সময় মিথুন ‘আমি বাঁচব না’ বলেছিলেন বলেও দাবি করেন মুবাশশের।

এদিকে সাথী গণমাধ্যমের কাছে মিথুনের উপস্থিতিতে সুমনের সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তার দাবি, তিনি ও সুমন ওই বিয়েতে রাজি ছিলেন না। মিথুনের দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর তারা এতে সম্মতি দেন।

সুমন বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরাও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানা গেছে।

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মিথুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->