আজ - শনিবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১২ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, (শীতকাল), সময় - রাত ১১:২৫

ডুমুরিয়ায় যুবদল নেতা শামীমকে কুপিয়ে হত্যা।

ডুমুরিয়ায় যুবদল নেতা শামীমকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাত ১১ টার দিকে আঠারো মাইল এলাকায় নিজবাড়ির তিনতলায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহ দুই যুবককে আটক করেছেন। এরা হলেন, মণিরামপুর উপজেলার কোন্দলপুর গ্রামের আবু বক্কার দফাদারের ছেলে এজাজুল ইসলাম (৪৩) ও তালা উপজেলার বলরামপুর গ্রামের আহম্মদ আলী সরদারের ছেলে শরিফুল ইসলাম সরদার (৩৮)। পুলিশ শামীমের লাশ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেছেন।

জানা যায়, আঠারোমাইল গ্রামের গফফার শেখের ছেলে এসএম শামীম(৩৫)। দুই বছর আগে আঠারোমাইল বাজারে মোটরসাইকেল মিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। তাদের তিনতলা বিশিষ্ট বাড়ির নিচতলা ভাড়া দেয়া। সেখানে ভাড়াটিয়ারা থাকেন। দ্বিতলায় শামীম তার পরিবারের সাথে থাকতেন। ভবনের তিন তলায় কেউ থাকতেন না। সেখানে প্রতিরাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীদের আড্ডা হতো। শুক্রবার রাতে তিনতলার একটি কক্ষে মাদক সেবীদের সাথে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় খুন হয়েছে শামীম। শামীমের পিতার সাথে তার মায়ের অনুমান ২০ বছর আগে ছাড়াছাড়ি হয়। তার পিতা এবং মাতা রশিদা বেগম প্রাইমারি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। শামীমের মায়ের হাতে ছিল তাদের সংসার। প্রায় ২৫ বছর আগে তালা উপজেলার উথালি গ্রাম থেকে আঠারোমাইল এসেছেন তারা।

শামীমের মাতা রশিদা বেগম জানান, প্রতিরাতে বহিরাগত লোক আসতো তাদের বাসায়। শুনেছি ওরা মাদকের নেশা করত। ঘরে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে আনন্দ উল্লাস করত। সেখানে পরিবারের কাউকে যেতে দিত না। শুক্রবার রাতে এজাজুল ও শরিফুল নামের দুই ব্যক্তি এসেছিল। প্রায়ই তারা আসতো। এই বলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা রশিদা বেগম।

শামীমের একমাত্র ছেলে তাজ (১২) পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। ঘটনার বিষয়ে সে জানায়, শরিফুল ও এজাজ বাবার সাথে তিনতলায় ছিলো। ওরা প্রায় আসতো। বাবাকে নিষেধ করতাম, কিন্তু তিনি শুনতেন না।

শামীমের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি জানান, স্বামীকে নেশা করতে বহুবার বারণ করেছি। কিন্তু সে আমাদের ধমক দিত। মা (শ্বাশুড়ি) বলতেন, ওকে কিছু বলো না। শুক্রবার রাত সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাসুদ রানা জানান, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শামীম হত্যার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় শরিফুল ও আজিজুল নামের দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে শামীমের পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়ায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে অনেকে জানান- শামীমের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বৃষ্টি ইয়াবার ব্যবসা করেন। নিহত শামীম তালা উপজেলার ইসলাম কাটি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->