
যশোর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় সততা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এক প্রতিবন্ধী অটো রিকশাচালক। যাত্রী ভুলবশত তার রিকশায় ফেলে যাওয়া মূল্যবান ব্যাগ যার মধ্যে ছিল স্বর্ণালঙ্কার ও স্মার্টফোন,তিনি পুলিশের সহায়তায় স্বেচ্ছায় তা ফেরত দিয়ে সৃষ্টি করলেন এক নজিরবিহীন উদাহরণ। এ ঘটনায় পুলিশের দ্রুত তৎপরতা এবং সহযোগিতা প্রশংসার দাবি রাখে।
ভুক্তভোগী আবু সালেহ (৩১)। তিনি কাশিমপুর ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী মায়িশাহ খাতুন (২২) ও এক শিশুকে নিয়ে শনিবার (১৪ জুন) দুপুর ২টার দিকে হাশিমপুর বাজার থেকে নিউমার্কেট বাসস্ট্যান্ডে আসেন একটি অটো রিকশাযোগে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তাড়াহুড়ায় রিকশায় লেডিস ব্যাগ ফেলে যান, যাতে একটি স্বর্ণের ব্যাচলেট, দুটি স্বর্ণের আংটি (মোট আনুমানিক ৫ আনা, বাজারমূল্য প্রায় ৭৫,০০০ টাকা), একটি Redmi A1 স্মার্টফোন (মূল্য ১১,০০০ টাকা), সিমকার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত ছিল।
ব্যাগ খুঁজে না পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আবু সালেহ কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগ গ্রহণের পরপরই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই ইসলাম এর নেতৃত্বে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সন্ধ্যান মেলে সংশ্লিষ্ট অটো রিকশাচালকের।
সাড়ে ৮টার মধ্যেই এসআই ইসলামের সরাসরি তদারকিতে পুলিশ যোগাযোগ করে রিকশাচালকের সঙ্গে। এরপর তিনি নিজেই থানায় উপস্থিত হয়ে সকল মালামাল ফেরত দেন।
রিকশাচালক, যিনি একজন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তিনি জানান আমি ফোনটি সবসময় চালু রেখেছিলাম যেন মালিক যোগাযোগ করতে পারেন। আমার ইচ্ছেই ছিল মালপত্র ঠিকঠাক ফেরত দেওয়া।”
ভুক্তভোগী আবু সালেহ বলেন, “আমার মালামাল ফিরে পাওয়ার পেছনে যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই ইসলামের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”পুলিশও রিকশাচালকের সততা ও দায়িত্ববোধকে প্রশংসা করে বলেন, “সমাজে এখনো এমন ভালো মানুষ আছেন বলেই আমাদের দায়িত্বপালন সফল হয়।