আজ - রবিবার, ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৩ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, (শীতকাল), সময় - রাত ১২:৫২

ফেসবুকে প্রেম বিয়ে স্ত্রীকে ফেরত চাওয়ায় যুবককে মারধর বিষ প্রয়োগে হত্যা চেস্টার অভিযোগ।

ফেসবুকে প্রেম ও গোপনে বিয়ে করার জেরে পারভেজ হোসেন (৩০) নামে এক যুবক আইসিইউতে ছটফট করছে। শ্বশুর শাশুড়ি তাকে নির্যাতনের পর বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এর আগে তার বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় অপহরণের মামলা করেছে শ্বশুর। পারভেজের পিতা মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘ওরা আমার ছেলের জীবনটা কেড়ে না নেয়া পর্যন্ত ক্ষ্যান্ত হবে না’।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে নভেম্বরে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার লুৎফর শিকদারের মেয়ে চাঁদনী আক্তার লতার সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার উত্তর বন্দরের মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে পারভেজের।

চলতি বছরের ২১ এপ্রিল তারা গোপনে বিয়ে করেন। পারভেজের পরিবার বিয়ে মেনে নিলেও নারাজ ছিলেন লতার পরিবার। পরে লুৎফর শিকদার কৌশলে বিয়ে মেনে নেয়ার কথা বলে জামাই ও মেয়েকে চট্টগ্রাম থেকে যশোরে নিয়ে আসেন। এরপর লুৎফর শিকদার জামাই পারভেজ ও তার পিতার নামে নাবালিকা অপহরণ মামলা দিয়ে পারভেজকে কোতয়ালি পুলিশে সোপর্দ করেন। ২ মাস ৭দিন হাজতবাসের পর ৩ জুলাই জামিন পান পারভেজ।

পারভেজের পিতা মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, ছেলের প্রেমের বিয়ে মেনে নিয়েছিলাম বলে মামলার আসামি হতে হয়েছে। লতা নিজের ইচ্ছায় পারভেজকে বিয়ে করলেও অপহরণের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। এখন ‘ওরা আমার ছেলের জীবনটা কেড়ে নিতে চায়ছে।

মহিউদ্দিন চৌধুরী জানান, মামলা নিষ্পত্তি ও মীমাংসার নামে পারভেজকে পুনরায় যশোরে ডেকে আনা হয়। পারভেজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১ টায় শ্বশুর লুৎফর শিকদারের বাড়িতে যান। শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে নাস্তার পর শ্বশুরকে মামলা তুলে নিতে ও তাদের ক্ষমা করে বিয়ে মেনে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন পারভেজ। এতে শ্বশুর লুৎফর শিকদার ও শাশুড়ি রাশেদা বেগম শিকদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাকে নির্যাতনের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা করে। ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে তাকে থানায় নিয়ে যান। পরে পুলিশের পরামর্শে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ঢাকায় রেফার্ড করেন। বর্তমানে পারভেজ রাজারবাগের বিএনকে হসপিটালের আইসিইউতে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে। ঘটনার সঠিক বিচার দাবি করেছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

এদিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন পারভেজ জানিয়েছিলেন, কৌশলে তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে শ্বশুর শাশুড়ি তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেছে। হত্যার উদ্দেশ্যে  মুখে বিষ ঢেলে দেয়। পরে তারা কুকুরের মত তাকে টেনে হেঁচড়ে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসে।
এ ব্যাপারে মেয়ে লতার পিতা লুৎফরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান আমার মেয়ের বয়স কম তাই মামলা করেছি ছেলেটি মামলায় জামিন পেয়ে আমাদের বাসার বাইরে নিজেই ঘাস পোড়া অসুধ খায়ে আত্মহত্যার চেস্টা করে আমি পুলিশ কে জানালে পুলিশ পারভেজ কে হসপিটালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে বলে সে অনুযায়ী আমি পারভেজকে হসপিটালে নিয়ে সু চিকিৎসার করি। পারভেজ আমার বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে মামলা তুলে নিতে বলে মামলা না তুলে নিলে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করবে হুমকি দেয় এটা এলাকাবাসী দেখছে।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল হাসনাত জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->