আজ - শনিবার, ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১২ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি, (শীতকাল), সময় - বিকাল ৪:৩৬

ভিক্ষার টাকা সুদে লাগিয়ে কোটি পতি ভিক্ষুক মাঙ্গিলাল।

লোহার তৈরি বল-বিয়ারিং লাগানো একটি ঠেলাগাড়ির ওপর বসে থাকেন মাঙ্গিলাল। কাঁধে একটি ব্যাকপ্যাক, আর দু’হাতে পরা থাকে এক জোড়া জুতো। সেগুলোতে ভর দিয়েই ভারতের ইন্দোর শহরের ব্যস্ত সারাফা বাজারের অলিগলি চষে বেড়ান। পথচারীদের কাছে তিনি ভিক্ষা চান না; বরং এমনভাবে বসে থাকেন, যাতে মানুষ নিজ থেকেই সহানুভূতিশীল হয়ে তাকে টাকা দিয়ে যায়।

মাঙ্গিলাল একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী কোটিপতি ভিখারি। তার মালিকানায় রয়েছে তিনটি বাড়ি (এর মধ্যে একটি সরকারি বরাদ্দপ্রাপ্ত বাড়ি), তিনটি অটোরিকশা এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি।

সম্প্রতি ভারতের নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের এক ভিক্ষাবিরোধী অভিযানে মাঙ্গিলালের সন্ধান মিলেছে। ইন্দোরকে ‘ভিক্ষুকমুক্ত শহর’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে উদ্ধারকারী দল মাঙ্গিলালকে আটক করে।
সারাফা এলাকায় নিয়মিত ভিক্ষা করা এক কুষ্ঠরোগী সম্পর্কে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকারী দল ভেবেছিল এটি আর পাঁচটা সাধারণ ঘটনা হবে। কিন্তু তার বদলে সামনে আসে এক বিস্ময়কর ঘটনা।

বছরের পর বছর ধরে নীরব ভিক্ষার কৌশলে পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন মাঙ্গিলাল। তিনি কখনো হাত পাতেননি। শুধু নিজের লোহার গাড়িতে বসে থাকতেন। বাকিটা করত মানুষের সহানুভূতি। স্বেচ্ছায় দান করত সবাই। শুধু ভিক্ষা থেকেই তার দৈনিক আয় ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ রুপি।

তবে তদন্তকারীদের মতে, আসল ব্যবসা শুরু হতো রাত নামার পর। জিজ্ঞাসাবাদের সময় মাঙ্গিলাল স্বীকার করেন, ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি নিজের ব্যয় নির্বাহের জন্য খরচ করতেন না। বরং সেই টাকা আবার সারাফা বাজারেই বিনিয়োগ করতেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একদিন বা এক সপ্তাহের জন্য নগদ টাকা ধার দিতেন মাঙ্গিলাল। তার বিপরীতে সুদ নিতেন, যা তিনি নিজেই প্রতিদিন সন্ধ্যায় আদায় করতেন। কর্মকর্তাদের অনুমান, বর্তমানে তার দেয়া ঋণের পরিমাণ ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি, যার মাধ্যমে তিনি প্রতিদিন সুদসহ প্রায় ২ হাজার রুপি পর্যন্ত আয় করতেন।

যে মানুষটিকে বাজারের সবাই নিঃস্ব ভাবতেন, এখন দেখা যাচ্ছে তিনি শহরের অভিজাত এলাকায় অবস্থিত তিনটি বাড়ির মালিক। এর মধ্যে একটি তিনতলা ভবন। এছাড়া তার রয়েছে প্রতিদিন ভাড়ায় দেয়া তিনটি অটোরিকশা এবং একটি মারুতি সুজুকি ডিজায়ার গাড়ি। এই গাড়ি তিনি নিজে চালান না, বরং ভাড়ায় দেন বলেই জানা গেছে।

এমনকি শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে তিনি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (পিএমএওয়াই) আওতায় একটি এক বেডরুম, হল ও রান্নাঘরবিশিষ্ট (১ বিএইচকে) সরকারি ফ্ল্যাটও পেয়েছেন, যদিও তার আগে থেকেই একাধিক সম্পত্তি ছিল।

নারী ও শিশু উন্নয়ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং উদ্ধার অভিযানের নোডাল অফিসার দীনেশ মিশ্র জানিয়েছেন, মাঙ্গিলালকে বর্তমানে উজ্জয়নের সেবাধাম আশ্রমে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার ব্যাংক হিসাব ও সম্পত্তির তদন্ত চলছে। পাশাপাশি, যেসব ব্যবসায়ী তার কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছেন, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

অভিযান ও এর অনুসন্ধান সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে গিয়ে মিশ্র বলেন জিজ্ঞাসাবাদের সময় মাঙ্গিলাল স্বীকার করেছেন যে ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা তিনি সারাফা এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সুদে ধার দিতেন। তিনি একদিন বা এক সপ্তাহের জন্য টাকা দিতেন এবং প্রতিদিন সারাফা এলাকায় এসে সুদ আদায় করতেন।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->