আজ - শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি, (বর্ষাকাল), সময় - রাত ৮:৪৪

যশোর লেবুতলা ইউনিয়নে ইদু বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারন মানুষ বাড়ছে ক্ষোভ।

যশোরের লেবুতলা ইউনিয়নের আন্দোলপোতা গ্রামে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ইদু বাহিনী ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বাহিনীর অত্যাচারে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরাও অতিষ্ঠ বলে দাবি করা হচ্ছে। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চলা ঝিনাইদহ কারাগারের কারারক্ষী আনোয়ার হোসেন ইদু ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এবার মসজিদের বারান্দায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ কর্মী, তার ছেলে ও স্ত্রীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে আন্দোলপোতা পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে। আহত এমদাদুল হক, তার ছেলে বশির আহমেদ ও স্ত্রী ছবেদা বেগমকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এমদাদুল হকের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। এছাড়াও বর্তমানে ইদুর ভাই জুলফিকার আলী ফক্কার নিজেকে আহত দেখিয়ে এমদাদুল হকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেও ইদু বাহিনীর কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে অনেকেই গ্রামছাড়া হয়েছেন। এ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। জেলা বিএনপির কাছেও অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আনোয়ার হোসেন ইদুর সঙ্গে দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এছাড়া ইদুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী পলাশকে বিএনপির সদস্যপদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। কয়েকদিন নীরব থাকার পর তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে এবং টাকা না দেওয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

আহত পরিবারের অভিযোগ, এমদাদুল হক মসজিদের বারান্দায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘ইদু বাহিনী’র সদস্য ফক্কার, ডা. মামুন, টিপু, ফক্কারের ছেলে রিয়াজুল, চকমের ছেলে ইয়ামিনসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, রড, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় ডা. মামুন এমদাদুল হকের গলার ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং অন্যরা ধারাবাহিকভাবে মারধর করেন। এতে তার ডান পা চার জায়গায়, বাম পা দুই জায়গায় ভেঙে যায় এবং বুকের হাড়েও গুরুতর আঘাত লাগে বলে পরিবারের দাবি।

খবর পেয়ে এমদাদুল হকের ছেলে বশির আহমেদ ও স্ত্রী ছবেদা বেগম ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বশির আহমেদকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয় এবং ছবেদা বেগমও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কাটা জখমের শিকার হন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছবেদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামী এমদাদুল হক আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। এ কারণে ৫ আগস্টের পর থেকে আনোয়ার হোসেন ইদু, তার ভাই ফক্কার ও তাদের সহযোগীরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে না পারায় এমদাদুল হক দীর্ঘদিন বাড়িছাড়া ছিলেন। প্রায় পাঁচ মাস আগে বাড়িতে ফেরার পর আবারও তার কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আন্দোলপোতা ও আশপাশের এলাকায় আনোয়ার হোসেন ইদুর নেতৃত্বে ‘ইদু বাহিনী’ নামে পরিচিত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। চাঁদা না দিলে মারধর, হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের দাবি, এ বাহিনীর হামলায় এর আগেও আইন্দোলপোতা গ্রামের মিন্টু, আছির উদ্দিন, কাঠামারা গ্রামের জাহিদুল, দোলেননগর গ্রামের সাঈদসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের অনেকেই এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় মামলাও হয়েছে।

এ বিষয়ে লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন, ইদু ও তার লোকজনের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। তারা বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চলেছে, এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিষয়টি জেলা বিএনপিকে জানানো হয়েছে। তাদের একজনকে ইতোমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ইদু বিএনপির কেউ না সেটাও জানানো হয়েছে। তারপরেও ইদুতে থামানো যাচ্ছে না।  আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন ইদুর মোবাইল নাম্বারে কল করলে তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সাথে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দিয়ে ফোনটি কেটে দেন

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->