
ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক রাশেদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার পর খারিজ হয়ে গেছে। সোমবার শহরের কাজীপাড়ার আব্দুল আজিজ সড়কের বাসিন্দা মৃত মুন্সী আব্দুল আলীমের ছেলে শরিফুল আলম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন অভিযোগটি গ্রহণ করে বিকেলে এক আদেশে খারিজ করে দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চসহকারী আল আমিন।
এদিকে মামলার বাদী শরিফুল আলমের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়না থাকায় পুলিশ সকালে আদালতের সামনের রাস্তা থেকে তাকে আটক করে নিয়ে গেছে। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, শরিফুল আলম মেসার্স এস আলম নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক যশোর শাখার একটি মামলার তিনি আসামি। এ মামলাটি যশোরের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন ছিল।
যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ আদালতের বিচারক আইন বহির্ভূত বিভিন্ন আদেশ, আইনজীবীদের সাথে অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি গত ৪ মার্চ সাধারণ সভা করে আদালত বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সেই থেকে আজ অবধি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের কার্যক্রম বিচারক আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতে করে আসছেন।
গত ৩০ মার্চ আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কারণে আসামি শরিফুল আলম সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে একটি সময়ের আবেদন জমা দেন। এদিন বিচারক রাশেদুর রহমান মামলার বাদীর সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে বাদী ব্যাংক কর্মকর্তার বক্তব্য একতরফাভাবে গ্রহণ করেন। বিচারক আদেশে ডাকমতে বিবাদীর অনুপস্থিতি উল্লেখ করে সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত করে যুক্তিতর্কের দিন ধার্য করেন।
বিচারক রাশেদুর রহমান বিচারাধীন অনেক মামলা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্পিত দায়িত্ব কর্তব্য পালন না করায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অপরাধ করেছেন।
এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন ও কোতোয়ালি থানায় দেয়া অভিযোগ কর্তৃপক্ষ গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে মামলা করেন।