আজ - সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - সকাল ১০:১৮

যশোর অভয়নগরে প্রেমের ফাদে ফেলে বিবাহ,অত:পর ভারতে পাচার।

রং নম্বরের আলাপ থেকে শুরু হওয়া একটি প্রেমের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় ভয়াবহ মানবপাচারের ঘটনায়। স্বামীর হাতে প্রতারণার শিকার হয়ে ভারতে পাচার ও পতিতালয়ে বিক্রির শিকার হন যশোরের অভয়নগর উপজেলার রীমা (৩০) নামে এক গৃহবধূ।
ভুক্তভোগী রীমা জানান, মোবাইল ফোনে রং নম্বরের মাধ্যমে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার টনি মোল্লা ওরফে নয়নের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। দীর্ঘদিনের কথোপকথনের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে ২০২১ সালের মে মাসে তারা ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই নয়নের আচরণ বদলে যেতে শুরু করে। রীমার অভিযোগ, তাকে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অভাবের অজুহাতে নয়ন তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ালেও এর আড়ালে ছিল সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর যশোর শহরে বেড়ানোর কথা বলে নয়ন তাকে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে সীমান্ত পার করে রীমাকে ভারতে পাচার করা হয়। পরে তাকে মহারাষ্ট্রের পুনে শহরের বুধওয়ার পেঠ এলাকার একটি পতিতালয়ে বিক্রি ও সেখানে তাকে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হয়।
প্রায় ২০ দিন চরম নির্যাতনের পর ভারতীয় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং একটি রেসকিউ ফাউন্ডেশনে পাঠায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ সরকার ও ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তিনি দেশে ফেরেন। পরে ৫ মার্চ তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
দেশে ফিরে ভুক্তভোগী রীমা স্বামী নয়ন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রধান আসামি টনি মোল্লা ওরফে নয়ন এবং তার এক সহযোগীকে আটক করে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->