আজ - মঙ্গলবার, ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - রাত ১১:৩৯

মাগুরা মহম্মদপুরে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ১২ জন আহত।

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার ঘুল্লিয়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় শুরু হয়ে সোমবার (১ জুন) বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘুল্লিয়া গ্রামে কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কেন্দ্রীয় শহীদ জিয়া পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাগুরা জেলা যুবদল নেতা সোহেল রানার সমর্থকদের সঙ্গে বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুর জামান ভূগলের সমর্থকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। যুবদল নেতা সোহেল রানা সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে আশরাফুর জামান ভূগল যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের অনুসারী। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিরোধের জেরে এলাকায় প্রায়ই ছোটখাটো উত্তেজনা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটত।

স্থানীয়দের দাবি, গত সপ্তাহে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শুকুর নামে এক ব্যক্তিকে আশরাফুর জামান ভূগলের সমর্থকরা মারধর করেন। এর পর ঈদের পরদিন অ্যাডভোকেট রুবেল শিকদারকে ঘুল্লিয়া বাজারে সোহেল রানার অনুসারীরা মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে একটি বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এলাকায় সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হয়।

রোববার রাতে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রথম দফার সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকে আবারও হামলা, পাল্টা হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন আমজেদ মোল্যা, আরজিনা বেগম, আরিফ শিকদার, জুয়েল মোল্যা, জাহিরুল মোল্যাসহ অন্তত ১২ জন। আহতদের মধ্যে আটজনকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত জাহিরুল মোল্যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে একের পর এক বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে মতিন ফকির, আরজু মোল্যা, অলিয়ার ফকির, হান্নান মোল্যা, এরশাদ মোল্যা ও আকবর শেখসহ দুই পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়। হামলার ঘটনায় অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে।

মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুজ্জামান বলেন, “ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে কোনো সংঘর্ষ যাতে না ঘটে সে জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->