আজ - শনিবার, ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি, (বসন্তকাল), সময় - রাত ২:৩৫

যশোরে আটক সেই প্রতারক মাহমুদার বিরুদ্ধে আরো ৮ টি মামলা,আদালতের এজাহারের নির্দেশ।

যশোরে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আটক সেই মাহমুদা জামানের বিরুদ্ধে আটটি মামলা হয়েছে আদালতে। প্রতারিত পাওনাদাররা মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এই মামলাগুলো করেছেন। চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহেদ আহমদ এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করার জন্য কোতোয়ালি থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন।

আসামি মাহমুদা জামান সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের সদুল্লাপুর গ্রামের মুনসুর আলীর মেয়ে। বর্তমানে তিনি ঢাকার লালবাগ থানার চকবাজার দ্বিগুবাগ লেনের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে স্বল্প সুদে এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

গত ৭ মার্চ পাওনাদাররা কৌশলে প্লেন ভাড়ার টাকা দিয়ে ঢাকা থেকে যশোরে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

মঙ্গলবার যারা তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন তারা হলেন, যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাবু গাজীর স্ত্রী দীপু খাতুন, পূর্ব বারান্দিপাড়ার মৃত মুজাহিদ মুন্সীর ছেলে রমজান, সদর উপজেলার চাঁদপাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলে শুকুর আলী, হাফিজুর রহমানের ছেলে আল আমিন হোসেন, ঝুমঝুমপুরের শহিদুল ইসলামের ছেলে সাইদুর রহমান রিপন, হামিদপুরের বজলুর রহমানের ছেলে হাবিবুর রহমান, বাউলিয়া গ্রামের আইনুদ্দীন গাজীর ছেলে ইমরান হোসেন ও মোকসেদ শেখের ছেলে সোহান হোসেন।

দীপু খাতুন তার মামলায় উল্লেখ করেছেন, তাকে একটি এনজিওতে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই দফায় ছয় লাখ ৯৯ হাজার ৫শ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মাহমুদা জামান।

শুকুর আলী তার মামলায় অভিযোগ করেছেন, তাকে একটি এনজিও থেকে ৫০ লাখ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ছয় লাখ টাকা ও ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক নিয়েছেন মাহমুদা জামান।

ইমরান হোসেন মামলায় উল্লেখ করেছেন, তাকে ঢাকার ডায়মন্ড লাইফ নামে একটি এনজিওতে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মাহমুদা জামান সাড়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সোহান হোসেন মামলায় উল্লেখ করেছেন, তাকে একটি এনজিও থেকে ৫০ লাখ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৫ লাখ টাকা ও ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক নিয়েছেন মাহমুদা জামান।

রমজান তার মামলায় বলেছেন, তাকে একটি এনজিও থেকে ৫০ লাখ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দুই লাখ টাকা ও ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক নিয়েছেন মাহমুদা জামান।

আল আমিন হোসেন মামলায় উল্লেখ করেছেন, মাহমুদা জামান তাকে একটি এনজিও থেকে ৫০ লাখ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নগদ সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ও ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক নিয়ে তার সাথে প্রতারণা করেছেন।

সাইদুর রহমান রিপন মামলায় উল্লেখ করেছেন, তাকে একটি এনজিও থেকে ৫০ লাখ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মাহমুদা জামান প্রতারণার মাধ্যমে দুই লাখ টাকা ও ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক নিয়েছেন।

হাবিবুর রহমান মামলায় অভিযোগ করেছেন, তাকে একটি এনজিও থেকে ৫০ লাখ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা ও ব্যাংকের তিনটি ফাঁকা চেক নিয়েছেন মাহমুদা জামান।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->