আজ - রবিবার, ১২ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৭শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি, (বর্ষাকাল), সময় - রাত ১২:০৯

যশোরে টানা বর্ষনে শহর এলাকা পানিতে থৈ থৈ হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি।

ভারিবর্ষণে তলিয়ে গেছে যশোর শহর ও শহরতলির অধিকাংশ এলাকা। এতে করে শহরে অনেক এলাকার মানুষ গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বিমান বন্দর আবহাওয়া অফিস জানায়- শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। শহর ঘুরে দেখা গেছে, শহরের রেলরোড, বেজপাড়া শংকরপুর, মোল্লাপাড়া,খড়কী, চোরমারা দীঘিরপাড়, এমএম কলেজ দক্ষিণ গেট, শাহ আব্দুর করিম,সড়ক, কারবালা, স্টেডিয়ামপাড়া, রেলস্টেশনসহ অধিকাংশ এলাকাসহ সরকারি স্থাপনায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শহরের বেশ কয়েক এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বেজপাড়ার বাসিন্দা আজাদ জানান, তার এলাকা সম্পূর্ণ তলিয়ে যায়। এমনকি বাড়ির মধ্যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বের হওয়ার কোন উপায় ছিল না। বেজপাড়ার কবরস্থান পাড়ায় পানি নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভা থেকে ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। একারনে পানি নিষ্কাশন হতে না পারায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ইজিবাইক চালক আশিক জানান, বেজপাপাড়ার এক ব্যক্তিকে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি এত পরিমান জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, ইজিবাইকের মধ্যে পানি ঢুকে যাচ্ছে। ওই অবস্থার মধ্যে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে আসি। নুরু নামে আরেক রিকশা চালক জানান রেল বোডেও অনেক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রিকশায় যাত্রী নেয়া ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়ে। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়া সরকারি এম এম কলেজের আশে আশেপাশে ছাত্রাবাসের মধ্যে পানি ঢুকে বই খাতা নষ্ট হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা ঘুম থেকে উঠে দেখে ভারিবর্ষনের কারনে ছাত্রাবাসের মধ্যে জলাবদ্ধতা হওয়ায় তাদের বইখাতা পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। জিনিসপত্র পানিতে ভাসতে দেখে। এমনকি তাদের রান্না করার অবস্থা ছিল না। একই অবস্থা ছিল পাশের এলাকা কারবালা। ভারি বর্ষনে চাঁচড়া এলাকার আঞ্চলিক বিদ্যুৎ মেরামত কেন্দ্রসহ মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। বিদ্যুৎ কর্মী রফিকুল ইসলাম টুটুল জানান, ভারি বর্ষণ হলে অফিসে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। সালমান হাসান নামে রায়পাড়া বাসিন্দা জানান- তার এলাকা রাস্তা তলিয়ে বাড়ির মধ্যে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এম এম কলেজের দক্ষিণ গেটের বাসিন্দা মাসুদ হোসেন নামে এক বাসিন্দা জানান, রাস্তা ও ড্রেনের কাজ এক বছর ধরে শেষ না হওয়ায় অনেক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। তার বাড়ির মধ্যে সামনেও পানি ঢুকে যায়। বাইরে বের হওয়ার কোন উপায় ছিল না। যশোরবাসির অভিযোগ পৌরসভার অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারনেই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু জানান, যে পরিমান বৃষ্টি হয়েছে সেই তুলনায় ড্রেন দিয়ে পানি অপসারণ হতে সময় লেগেছে। দুপুরের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত অধিকাংশ এলাকাসহ রাস্তার পানি বের হয়ে গেছে। শুধু খড়কী আপনের মোড়, কবীরের মোড় সার্কিট হাউজপাড়ায় কিছু পানি জমে আছে। সেগুলো বের হয়ে যাবে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->