আজ - শনিবার, ১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি, (বসন্তকাল), সময় - রাত ২:৩০

যশোরে ডিবির এসআই ও বাদীকে প্রান নাশের হুমকির প্রেক্ষিত কোতয়ালী থানায় ২ টি জিডি

যশোরে একটি হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম, মামলার বাদী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

মামলার বাদী মো. আব্দুর রহমান গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) থানায় একটি জিডি (নম্বর ৮৪২) করেন। একই রাতে তদন্ত কর্মকর্তা মফিজুল ইসলামের স্ত্রী আবিদ আরা পারভীনও নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে আরেকটি জিডি করেছেন।

জিডিতে অভিযুক্তরা হলেন—যশোর সদরের বাদিয়াটোলা গ্রামের হাসানুজ্জামান হাসান, তারেক হোসেন এবং নাটোরের নলডাঙ্গার আজিজুর রহমান রতন। এছাড়া আবিদ আরা পারভীনের জিডিতে যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকার বাসিন্দা মামুন কোচিং সেন্টারের শিক্ষক মো. মাহমুদ ইসলাম মামুনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট কুয়েতপ্রবাসী বিএনপি কর্মী মেহের আলীকে তার বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুর রহমান কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করলে তদন্তের দায়িত্ব পান ডিবির তৎকালীন এসআই মফিজুল ইসলাম। তদন্তকালে অভিযুক্ত তারেক হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বর্তমানে মামলার অন্যান্য অভিযুক্তরা তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে এবং বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত আজিজুর রহমান রতন প্রবাসে অবস্থান করে তার ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজ থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তদন্ত কর্মকর্তা মফিজুল ইসলামকে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া গত ৬ মার্চ রতন যশোরে এসে তারেক ও মামুনসহ কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে নিয়ে গোপন বৈঠক করে বাদী ও সাক্ষীদের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করেছেন বলেও অভিযোগে জানানো হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার স্ত্রী আবিদ আরা পারভীন তার জিডিতে জানান, তার স্বামী বর্তমানে ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টারে কর্মরত থাকলেও মেয়ের পরীক্ষার কারণে তারা যশোর শহরের পুরাতন কসবা এলাকায় বসবাস করছেন। অভিযুক্ত রতন ও মামুন তাদের পরিবারের সদস্যদের গতিবিধি নজরদারি করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। উল্লেখ্য, আজিজুর রহমান রতন ২০১৭ সালে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং বর্তমানে তিনি পলাতক আসামি।

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->