আজ - সোমবার, ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ৬ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি, (বসন্তকাল), সময় - সকাল ৬:৩২

যশোরে ত্রয়োদশ নির্বাচনি সহিংসতায় দেড় শতাধিক আহত।

দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে যশোরে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হলেও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠছে। গত তিন দিনে জেলায় শতাধিক হামলা, পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াত ও বিএনপির দেড় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ বলছে, সহিংসতার ঘটনাগুলোতে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার বেশির ভাগই ঘটেছে গ্রামাঞ্চলে। মূলত স্থানীয় রাজনীতির জয় পরাজয়ের বিভেদের দ্বন্দ্বেই এসব হামলা বলছেন ভুক্তভোগীরা। এর মধ্যে দুটি ঘটনায় পাঁচজনকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
জেলা জামায়াতের আমীর ও যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন-‘ব্যালট বিপ্লবে যশোরের ছয়টি আসনের ৫ টিতে জামায়াত নেতৃত্ত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ৫ জন প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভোটার কর্মী ও নেতা কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬০ জনের মতো আহত হয়েছে। প্রতিদিনই জেলায় কোথাও না কোথাও তাদের নেতাকর্মী বিএনপি কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা হচ্ছে। তিনি জানান, নির্বাচন পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। আমরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাবো, জাতির এই ক্রান্তিকালে দেশের পরিবেশ শান্ত রাখার জন্য আরও শক্ত অবস্থান থাকতে হবে।’
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন-‘জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর হামলা করছে। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে তাদের কর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করছে। তাদের কর্মীরা প্রায় ২৫টি জায়গায় হামলা করেছে। এতে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা রাজনীতিক প্রতিহিংসায় বিশ্বাসী না। তবে কেউ প্রতিহিংসা দেখাতে যেয়ে দলীয় বিশৃঙ্খলা করেছে। এমন পাঁচজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে যশোরের চৌগাছার পাশাপোল জামতলাতে স্থানীয় জামায়াত অফিসে আড্ডা দিচ্ছিলেন ইউনিয়ন যুব জামায়াত সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। স্থানীয় বিএনপি কর্মী নিছার মেম্বারের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে সাতজন হামলা চালালে যুব জামায়াতের সভাপতিসহ আহত হন চারজন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে এলাকায় কাজ করাতে অভিযুক্তরা তাদের উপর হামলা করেছে।
চৌগাছা উপজেলা ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের আবেদ আলীর বাড়িতে রামদা, লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করেছে। বাড়ির জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেছে এলাকার মেহের আলী, রবিউল ইসলাম, ইমামুল, আল আমিন, হোসেন আলী, বাবু, রাজ্জাক, মুনতাজসহ অজ্ঞাত আরো অনেকে।
ফুলসারা ইউনিয়নের দুর্গাবরকাটি গ্রামের সাবেক মেম্বর তোফাজ্জেল এর বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। তার মেয়েকে বেধড়ক পিটিয়েছে। তাকে শ্লীলতাহানি করেছে। মেয়েটি ঘটনার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।
শার্শার বেলতা গ্রামে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেয়ার কারণে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপির স্থানীয় নেতা মৃত অমর বিশ্বাসের দুই ছেলে মিলন বিশ্বাস (৬৫) ও তরিকুল বিশ্বাস (৫৫)-এর নেতৃত্বে একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় অংশ নেয় মনসুর (৫০) ও তার দুই ছেলে মারুফ (২৫) ও মামুন (২৪), লতা ডাক্তারের ছেলে জীম (২০), এক্সরের ছেলে টিপু (২৪), মসলেমের ছেলে ওদু বিশ্বাস (৪২) এবং মৃত কাওসারের ছেলে টুকু বিশ্বাস (৫৬)। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জামায়াত কর্মীদের ওপর চড়াও হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শার্শা উপজেলার লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নে বিএনপির নেতা আহসান হাবীব খোকন ও আরমানের নেতৃত্বে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে এলাকায় ভয়ভীতি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যশোরের চৌগাছার ফুলসারা ইউনিয়নের চারাবাড়ি বাজারে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ বাবু নামে এক বিএনপি নেতা আহত হয়েছেন। শনিবার গুরুতর অবস্থায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। আহত বাবু (৪৫) ফুলসারা ইউনিয়নের ৩নং নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ফুলসারা ইউনিয়ন বিএনপির কৃষকদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনে তিনি ছিলেন ধানের শীষের পক্ষের কর্মী। রায়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে মোট ভোট ১৭৬৭। এর ভিতর ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে ৬৭১টি। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ৫৬১ ভোট। বাকি ভোট পেয়েছে অন্যরা। এ ভোট কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা পাস করতে না পারায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার উপর হামলা চালায়।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবুল বাশার বলেন-‘বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষিপ্তভাবে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। যেখান থেকেই তারা সংবাদ পাচ্ছেন তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠাচ্ছেন। ঘটনার বিষয়ে থানায় কোনো অভিযাগ করা হচ্ছে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->