
যশোরে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ ব্যবস্থা সার্ভার সমস্যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক। রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংসহ কোনো মাধ্যমেই রিচার্জ করা সম্ভব হয়নি অনেকের। ফলে সকাল থেকেই বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে সময় কাটাতে হয় অনেক পরিবারকে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়েন সাধারণ মানুষ। মিটারের ব্যালেন্স ফুরিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোন নিয়ে রিচার্জের চেষ্টা করেন কেউ কেউ। তবে, অধিকাংশ গ্রাহকই বিদ্যুৎ ছাড়া দীর্ঘ সময় কাটাতে বাধ্য হন।
সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন রিচার্জ পয়েন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ও ব্যাংক শাখায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু সার্ভার ডাউন থাকায় কেউই রিচার্জ সম্পন্ন করতে পারেননি। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হয় অনেককে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
অনেক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, নিজের টাকায় অগ্রিম রিচার্জ করতে না পারা অত্যন্ত হতাশাজনক। একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্যদিকে টাকা থাকা সত্ত্বেও সেবা না পাওয়া এটি যেন ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রেলগেট এলাকার বাসিন্দা মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি মিটারে ৫০০ টাকা রিচার্জ করতে চারটি দোকান এবং দুটি ব্যাংকে যান। দীর্ঘ সময় ঘুরেও রিচার্জ করতে না পেরে তার প্রায় ২০০ টাকা যাতায়াতে ব্যয় হয়। তারপরও তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে ব্যর্থ হন।
ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের আমান ট্রেডার্সের মালিক ইমাদুল ইসলাম বলেন, সকালে কিছু সময় বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে রিচার্জ করা গেলেও পরে সার্ভার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্রাহকরা দোকানে এসে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান এবং অনেক সময় দোকানদারদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। অগ্রণী ব্যাংক যশোর দড়াটানা শাখার ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা জানান, সার্ভার সমস্যার কারণে সাময়িকভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে। তবে, দুপুরের পরই স্বাভাবিক হয়ে যায়।
এ বিষয়ে ওজোপাডিকো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন এবং বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জিএম মাহমুদ প্রধান জানান, খুলনার সার্ভারে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঈদের আগে শেষ ব্যাংকিং দিনের চাপ একসঙ্গে পড়ায় সার্ভার অতিরিক্ত লোড নিতে পারেনি। পরে দুপুরের দিকে সমস্যা সমাধান করা হয় এবং বর্তমানে রিচার্জ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, ওজোপাডিকো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর আওতাধীন প্রিপেইড গ্রাহক রয়েছেন ২৪ হাজার এবং ওজোপাডিকো বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতায় যশোরে ২৮ হাজার গ্রাহক রয়েছেন।