
যশোর সদর উপজেলার ৮ নম্বর দেয়াড়া ইউনিয়নের আমদাবাদ গ্রামের ঘোষপাড়ায় এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক। স্থানীয়দের দাবি, কথিত ‘জিন সাপের’ কামড়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এরপর মাত্র একদিনের মধ্যে একই গ্রামের অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে একই ধরনের সাপ কামড় দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত চিকিৎসক, প্রশাসন বা বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা বৈজ্ঞানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে পলাশ ঘোষের ছেলে পাপন ঘোষ ঘুম থেকে উঠে পেটে তীব্র ব্যথার কথা জানান। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সময়ে পরিবারের উদ্যোগে ঝাড়ফুঁকেরও ব্যবস্থা করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, একজন ওঝা তাদের জানান, পাপনকে কথিত ‘জিন সাপ’ কামড়েছে। পরে শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পাপনের মরদেহ দাহ করার পর থেকেই গ্রামজুড়ে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার সকাল থেকে ঘোষপাড়ার অর্ধশতাধিক ব্যক্তি একই ধরনের সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তাদের মধ্যে রিয়া, অজয়, শেফালী, নিত্যানন্দ, সোমেন, প্রতীক, সিধু, চন্দনা, সোহাগী, মুন, সদানন্দ ও মনিরসহ আরও অনেকে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর গ্রামজুড়ে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক পরিবার শিশুদের ঘরের বাইরে যেতে দিচ্ছেন না। সন্ধ্যার পর প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই।
দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, পাপনের মৃত্যুর পর এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে সাপে কামড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে জরুরি আলোচনা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আক্তারুজ্জামান বলেন, ওঝারা বলছেন, জিন সাপে কামড় দিচ্ছে। কিন্তু সেই সাপ দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে সবাই আতঙ্কে রয়েছেন।
যশোর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসেইন সাফায়েত জামিল বলেন, আইসিইউতে একজন রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি তার জানা আছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে আবার কেউ কেউ বলছেন স্রেফ গুজব। অন্যকোনো কারণে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন যা জীন সাপ বলে প্রচার করা হচ্ছে।