
সাবেক রাষ্ট্রপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানায়ক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী আজ শনিবার (৩০ মে)। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে তিনি নিহত হন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাষ্ট্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী জিয়াউর রহমান একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও রণাঙ্গনের নেতা ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে বাঙালিদের ওপর নৃশংস হামলার পর দেশের সংকটময় মুহূর্তে তিনি চট্টগ্রামে অবস্থানরত অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।
পরবর্তীতে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করে তিনি মুক্তিকামী জনগণকে উজ্জীবিত করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকার তাকে ‘বীরউত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত।
জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো দেশব্যাপী আট দিনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ, কালো ব্যাজ ধারণ এবং বিভিন্ন সংবাদপত্র ও অনলাইন মাধ্যমে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হচ্ছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ ভোর ৬টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।
এছাড়া সকাল ১১টায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ ও নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করবেন। জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মনসুর রহমান এবং মাতা জাহানারা খাতুন (রানী) ছিলেন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।
বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে পরিচালিত বিবিসি বাংলার ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি’ জরিপে নির্বাচিত ২০ জন বিশিষ্ট বাঙালির তালিকায়ও স্থান পেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।