
যশোরের সাতমাইল এলাকায় এক ব্যক্তিকে নারী দিয়ে কথিত ‘হানি ট্র্যাপে’ ফাঁসিয়ে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে স্বজন ও স্থানীয় এক বিকাশ ব্যবসায়ীর বুদ্ধিমত্তা এবং যৌথ সহযোগিতায় মধ্যরাতে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম ওবায়দুল ইসলাম (৪৫)। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার চান্দা গ্রামের মৃত আহাদ আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বাড়ীনগর বাজার-সাতমাইল সংলগ্ন এলাকায় ওবায়দুল ইসলামকে একা পেয়ে এক অচেনা নারী ও কয়েকজন যুবক ফাঁদ পেতে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে বেআইনিভাবে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং তাঁর পরিবারের কাছে বিকাশ নম্বরে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
একপর্যায়ে চক্রটি বাড়ীনগর বাজারের নিপুণ মার্কেট সংলগ্ন ‘শিমুল টেলিকম’-এর একটি বিকাশ এজেন্ট নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য ওবায়দুলের ওপর চরম মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করে।
ঘটনার খবর পেয়ে ওবায়দুলের কাজিন ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য নাজমুল বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই বিকাশ এজেন্ট শিমুল টেলিকমের স্বত্বাধিকারীর সাথে যোগাযোগ করে কৌশলী পদক্ষেপ নেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় রাত ১২টার দিকে জিম্মিদশা থেকে ওবায়দুলকে সশরীরে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
যশোর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারের সময় ওবায়দুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত ছিল। তবে ব্ল্যাকমেইলিং ও হানি ট্র্যাপের সাথে জড়িত অজ্ঞাতপরিচয় নারী ও যুবক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।