আজ - সোমবার, ২১শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি, (বর্ষাকাল), সময় - ভোর ৫:০৪

প্রকৃত আসামিকে আড়াল করে অভয়নগরের বিবিএ শিক্ষার্থীর নামে মাদক ও জাল টাকার মামলা!

প্রকৃত আসামিকে আড়াল করে অভয়নগরে নওয়াপাড়া গ্রামের জিএম নাজমুল ইসলাম নামে বিবিএ’র এক শিক্ষার্থীর নামে মাদক ও জাল টাকার মামলা করা হয়েছে। উক্ত মামলায় বরিশাল কারাগারে রয়েছেন শিক্ষার্থী জিএম নাজমুল ইসলাম।

ন্যায়বিচার পেতে শনিবার দুপুরের নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষার্থীর বাবা জগন্নাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী জিএম আনোয়ার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জিএম আনোয়ার জানান, তার ছেলে জিএম নাজমুল ইসলাম ঢাকা রিসোর্স কলেজে বিবিএ’র শিক্ষার্থী ছিল। ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার গৌরনদী থানায় র‌্যাব-৮ এর ডিএডি পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২৬/ ৩৯৪। ২০১৯ সালের ১৪ মে ১৩ জনকে আসামি করে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার নথিপত্র দেখিয়ে তিনি আরো জানান, ২০১৮ সালে দায়েরকৃত এজাহারে ৯নং আসামি অনু (৪৫), মোবাইল নং-০১৭৯১-০১৪২২০. পিতা- অজ্ঞাত, সাং- অজ্ঞাত, জেলা- যশোর উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি অভয়নগর থানা পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারেন তার ছেলের নামে ওয়ারেন্ট এসেছে। অথচ তার ছেলের নাম অনু নয়। অন্যের অপরাধ তার ছেলের ঘাড়ে চাঁপানো হয়েছে। তারপরও তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মপক্ষ সমর্থন করলে আদালত তার ছেলে জিএম নাজমুল ইসলামকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। উচ্চ আদালত জামিন মঞ্জুর না করায় অদ্যবধি তার ছেলে বিনা অপরাধে কারাভোগ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি আরো জানান, কোন কুলকিনারা না পেয়ে মামলার নথিপত্র মোতাবেক বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার কটকস্থল গ্রামের মজিবুর রহমান ওরফে ইঙ্গল মাঝির ছেলে মামলার ১নং আসামি মো. হিরা মাঝির বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারি পুলিশ কর্মকর্তারা অজ্ঞাত কারণে প্রকৃত আসামিকে আড়াল করে জিএম নাজমুল ইসলামের নামে চার্জশিট দাখিল করেছেন। প্রকৃতপক্ষে ওই মামলার ৯নং আসামি যশোর সদর উপজেলার আলমনগর গ্রামের আক্কাস মাস্টারের ছেলে আসিফ হাসান অনু (৪৫)। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তার ছেলের জাতীয় পরিচয়পত্রে জিএম নাজমুল ইসলাম রয়েছে। একটি চক্র প্রকৃত আসামি আসিফ হাসান অনুকে বাঁচিয়ে দেওয়ার স্বার্থে এহেন কর্মকা- করেছে। মামলাটি পূনতদন্ত করে প্রকৃত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করাসহ তার নিরপরাধ ছেলের মুক্তি কামনা করেছেন তিনি।

আরো সংবাদ