আজ - শনিবার, ২৯শে মার্চ, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৯শে রমজান, ১৪৪৬ হিজরি, (বসন্তকাল), সময় - রাত ২:১৩

পঞ্চম ধাপের দ্বিতীয় দিন ভাসানচর পৌঁছেছেন ১৭৫৯ রোহিঙ্গা

পঞ্চম ধাপের দ্বিতীয় দিন ভাসানচর পৌঁছেছেন আরও ১৭৫৯ জন রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌ-বাহিনীর ৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে সকালে রওয়ানা হয়ে বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) দুপুর দুইটায় হাতিয়ার ভাসানচরে পৌঁছায়। ভাসানচরে আসার পর পরই তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীরা। এসময় ঘাটে উপস্থিত ছিলেন নৌ বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার আসা ১৭৫৯ রোহিঙ্গার মধ্যে নারী ৫১৫ জন, পুরুষ ৪৪৮ জন ও শিশু ৭৯৬ জন। পঞ্চম ধাপের প্রথম অংশে বুধবার (৩ মার্চ) ভাসানচরে এসেছে ২ হাজার ২শ ৫৭ জন রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে ৫শ ৬৩ জন পুরুষ, ৬শ ৬৫ জন মহিলা ও ১ হাজার ২৯ জন শিশু রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভাসানচরে আসা রোহিঙ্গা দলটিকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওয়্যার হাউজে। সেখানে নৌ-বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে ভাসানচরে বসবাসের বিভিন্ন নিয়ম কানুন সম্পর্কে ধারণা দেয়। পরে বিকালে তাদের জন্য তৈরি আবাসস্থল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

নৌ-বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এর আগে স্থানান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম বোট ক্লাব থেকে নৌবাহিনীর পাঁচটি জাহাজে করে ১ হাজার ৭শ ৫৯ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরে উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়।

অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার দফায় কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে ৯ হাজার ৫শ ৩৬ জন রোহিঙ্গা। প্রথম দফায় গত ৪ ডিসেম্বর ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে গেছেন। এরপর ২৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপে যান ১ হাজার ৮০৫ জন ও তৃতীয় ধাপে দুই দিনে ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি ৩ হাজার ২শ জন রোহিঙ্গাদের ভাসানচর স্থানান্তর হয়। এছাড়া চতুর্থ ধাপের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিন ২ হাজার ১০ জন ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ৮শ ৭৯ জন রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশ্যে উখিয়া কলেজের অস্থায়ী ট্রানজিট ক্যাম্প ত্যাগ করে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেন বলেন, ভাসানচরের আশ্রয়শিবিরে মোট এক লাখ রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে সরকারের। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ইতিমধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে মোটামুটি ১৩ হাজার একর আয়তনের ওই চরে ১২০টি গুচ্ছ গ্রামের অবকাঠামো তৈরি করে যাতে এক লাখের বেশি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরো সংবাদ