আজ - শনিবার, ১৮ই মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১০ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - দুপুর ১২:০৭

রঙিল মাছ চাষে স্বপ্ন দেখছেন নারী উদ্যোক্তা

মনিরামপুর প্রতিনিধি ।। যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় সালামতপুর গ্রামের আব্দুল আহাদের স্ত্রী নারী উদ্যোক্তা মনোয়ারা পারভীন বৃষ্টি বাহারি রঙিন মাছ চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন । প্রতি মাসে রেণু বিক্রি করে লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছেন নারী উদ্যোক্তা মনোয়ারা পারভীন। এটি রঙিন মাছ হিসেবেও পরিচিত। এ মাছের বেশির ভাগই বিদেশী জাতের। দেশ-বিদেশের অভিজাত শপিংমল, অফিস কিংবা বাসা বাড়িতে অ্যাকুরিয়ামে শোভাবর্ধনে বাহারি মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রবাসী স্বামীর অনুপ্রেরণায় এ মাছ চাষে উদ্যোগী হয়েছেন এই নারী।

মনোয়ারা উপজেলার সালামতপুর গ্রামের আব্দুল আহাদের স্ত্রী। ২০০৫ সালে ভাগ্য বদলে স্বামীর সাথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে পাঁচ বছর থেকে কন্যা সন্তানের জন্মের পর ২০১৩ সালে দেশে ফিরেন । তাদের সংসারে বর্তমান নূর হাবিবা রিনি (১০) মেয়ে এবং বাঁধন (৬) নামের একটি ছেলে রয়েছে। স্বামী প্রবাসী হওয়ায় অলস সময় না কাটিয়ে কাজের মধ্যে থাকেত চেয়েছেন তিনি। নিজের ইচ্ছা শক্তি আর প্রবাসী স্বামীর উৎসাহে কর্মের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন তিনি।

বাড়িতেই ছাদের ওপর কাঠ আর পলিথিন দিয়ে হাউজ বানিয়ে বাহারি রঙিন মাছ চাষ করছেন। তিনি বলেন, বিদেশ থেকে ফিরে স্বামীর বাড়িতে ছাদে ফলদ, বনজ, ওষুধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করি। এরপর পাশের ঝিকরগাছা উপজেলায় ১০ বিঘা জমিতে নার্সারি করি। সেখানে লাভবান হন তিনি। পরে ১০০টি ক্যাম্বেল হাঁস কিনে হাঁস পালন শুরু করেন। এর মধ্যে ৭০টি হাঁস মারা যায়। কিন্তু তাতে থমকে যাননি এ কর্মপাগল নারী। বাজারে চাহিদা রয়েছে এমন কিছু করার ইচ্ছা পেয়ে বসে তাকে।

এরপর পরিচিতি একজনের কাছ থেকে বাহারি মাছ চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে বেশি মুনাফার প্রত্যাশায় মাস পাঁচেক আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে বাহারি মাছ সংগ্রহ করে এ মাছ চাষে নেমে পড়েন। পাপ্পি, অটোবিট, গোল্ডেন ফিস, কৈকার্প, কমেট, টিউলিফ-এর ২০ প্রজাতির বাহারি মাছ করছেন তিনি। বর্তমানে তার কাছ থেকে বাহারি মাছ কিনতে দেশ-বিদেশ থেকে অর্ডার পেয়েছেন। বাজারে চাহিদা থাকায় ইতোমধ্যে তিনি ২০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে পুকুর (ছোট) বানিয়ে এ বাহারি মাছ চাষ প্রসারিত করার প্রকল্প নিয়েছেন। এজন্য এ মাছের রেণু উৎপাদনে হ্যাচারি করার উদ্যোগও নিয়েছেন। উপজেলা মৎস্য অফিস তার উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন বলে তিনি জানান। কয়েক মাস পরেই তিনি বাহারি মাছের পোনা বিক্রি করে মাসে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা উপার্জনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ বলেন, মনোয়ারা পারভীন বৃষ্টি একজন উদ্যোমী নারী। এ বাহারি মাছ চাষে তার ভাগ্য বদলে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে তার প্রত্যাশা। উপজেলা থেকে সকল বাহারি মাছ চাষে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে।

আরো সংবাদ