আজ - মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - বিকাল ৫:৩৮

যশোর শার্শায় প্রবাসী স্ত্রী পালালো পড়ছি ছোট বেদরের সাথে।

সংসারের সচ্ছলতা আর স্ত্রী-সন্তানের মুখে একটুখানি হাসির ঝিলিক দেখতে চারবছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন কামরুল ইসলাম। বিদেশের মাটিতে দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি আর তপ্ত ঘাম ঝরিয়ে উপার্জিত প্রতিটি টাকা পাঠিয়েছিলেন স্ত্রী কাকলি খাতুনের কাছে। আশা ছিল, প্রবাস জীবনের কষ্ট শেষে দেশে ফিরে নিজের সাজানো সংসারে একটু শান্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন। কিন্তু পরোকিয়ার টানে কামরুলের সেই সাজানো স্বপ্ন এখন ধ্বংসস্তূপ। যশোরের শার্শা উপজেলার পাঁচভূলাট গ্রামে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনা এখন এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ কামরুলের ঘাম ঝরানো প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতিবেশী ছোট ভাই আশরাফুলের হাত ধরে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছেন স্ত্রী কাকলি। কিন্তু টাকার চেয়েও কামরুলকে বেশি কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে তার আট বছরের অবুঝ সন্তান তাসকিনের ভাগ্য। ১৫ দিন পার হলেও কেউ জানে না শিশুটি কোথায় আছে, কেমন আছে।

মালয়েশিয়া প্রবাসী কামরুল ইসলাম জানান, ১০ বছর আগে সাতক্ষীরার তুজলপুর গ্রাম থেকে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল শার্শার কাকলি খাতুনের। দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই নানা অশান্তি থাকলেও সন্তানের মুখ চেয়ে সব সয়ে নিয়েছিলেন কামরুল। এমনকি স্ত্রীর আবদার মেটাতে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে শার্শায় স্ত্রীর নামে জমিও কিনেছিলেন। সেখানেই শুরু করেছিলেন বসবাস।  গত চার বছর আগে বিদেশে যান কামরুল। কামরুল প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পাঠাতেন কাকলিকে। ঈদ বা বিভিন্ন উৎসবে সেই অংক গিয়ে ঠেকত লাখে। স্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন, সব টাকা ব্যাংকে জমা আছে। কিন্তু কামরুলের সরলতার সুযোগ নিয়ে কাকলি জড়িয়ে পড়েন পরকীয়ায়। গত ৪ এপ্রিল সব জমানো টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে প্রতিবেশী ছোটভাই আশরাফুলের সাথে চম্পট দেন কাকলি। যাওয়ার আগে কামরুলকে মোবাইলে সন্তানকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই নিখোঁজ আট বছরের শিশু তাসকিন হোসেন।প্রবাসে বসে কামরুল এখন উন্মাদের মতো আহাজারি করছেন। তিনি জানান “আমি ওর মন পাইনি, আর পেতেও চাই না। কিন্তু আমার কলিজার টুকরা সন্তানটা কোথায়? ও কী খাচ্ছে, কোথায় ঘুমাচ্ছে—কেউ আমাকে বলতে পারছে না। আমি শুধু আমার সন্তানকে ফিরে পেতে চাই।

এদিকে কাকলির মা লতা খাতুন জানান, কাকলি কোথায় রয়েছে সেটা তিনিও জানেন না। তিনি নিজেও মেয়ের বিপক্ষে কথা বলেন।

অন্যদিকে, আশরাফুলের মা বলেন, কাকলি আশরাফুলের থেকে বয়সে বড়। এ সম্পর্ক আমরা কখনোই মেনে নিবনা।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্নভাবে কাকলি ও আশরাফুলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভাব হয়নি।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->