আজ - বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি, (গ্রীষ্মকাল), সময় - বিকাল ৪:৫৮

ঝিকরগাছায় একই দড়িতে ঝুলে প্রান গেলো মা ও ছেলের।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় একই ঘর থেকে মা ও তাঁর মাত্র দুই বছর বয়সী শিশু পুত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) সকালে উপজেলার নাভারণ ইউনিয়নের শরিফপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ও রহস্যময় ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামীকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নিহতরা হলেন—শরিফপুর গ্রামের জনি মিয়ার স্ত্রী রেবেকা খাতুন (৩০) এবং তাঁদের দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তান/পুত্র সোহরাব হোসেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে ঘরের ভেতর মা ও শিশুকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঝিকরগাছা থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশের একটি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

মা ও শিশুর এই রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নিহতের শ্বশুরবাড়ি এবং বাবার বাড়ির পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী দাবি করা হচ্ছে।নিহত রেবেকার শ্বশুর রবিউল ইসলাম ও শাশুড়ি পরিছন বেগমের দাবি, জমি বিক্রি করা নিয়ে রেবেকার সাথে তাঁর নিজের বোন সাফিয়া বেগমের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে মানসিক ক্ষোভ ও অভিমান থেকে রেবেকা তাঁর সন্তানসহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

তবে শ্বশুরবাড়ির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন নিহতের বোন সাফিয়া বেগম। উল্টো পাল্টা অভিযোগ এনে তিনি দাবি করেন, রেবেকার স্বামী জনি মিয়া একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি। সে দীর্ঘদিন ধরে রেবেকার ওপর নানাবিধ কারণে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। স্বামীর এই নির্মম ও ধারাবাহিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই রেবেকা তাঁর সন্তানসহ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “খবর পেয়ে আমরা মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য এবং ঘটনার নেপথ্যের রহস্য জানতে নিহতের স্বামী জনি মিয়াকে আটক করে আমাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

ওসি আরও জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন (পোস্টমর্টেম রিপোর্ট) এলে এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। একই সাথে একটি ঘরে মা ও শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো শরিফপুর গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া ও চরম চাঞ্চল্য বিরাজ করছে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->