আজ - মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি, (শরৎকাল), সময় - রাত ২:০০

মনিরামপুর মশ্বিমনগর মাদ্রাসা ছাত্রীকে বড় হুজুর কতৃক শ্লীনতাহানি ক্ষোভে ফুসছে এলাকাবাসী।

যশোর মনিরামপুর উপজেলার মশ্বিমনগর কওমি মহিলা মাদ্রাসার একজন ছাত্রীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে শ্লীনতাহানির অভিযোগ উঠেছে ওই প্রতিষ্ঠানের বড় হুজুর জালালের বিরুদ্ধে।ঘটনার পরে অভিযুক্ত জালাল পলাতক আছেন।অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহল ঘটানাটি ধামাচাপা দিতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।এ নিয়ে চলছে দফায় দফায় মিটিং ও দেনদরবার।ঘটনাটি জানার পরে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়।ভিকটিমের বাবা জানান বুধবার সকাল ৯ টার দিকে তার মেয়েক্র বলা হয় বড় হুজুর জালালের অসুস্থ মাকে খাবার পৌঁছে দিতে হবে।

নির্দিষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়,মাদ্রাসা থেকে খাবার নিয়ে বড় হুজুর জালালের বাড়িতে যেতে হবে। নির্দিষ্ট করে দেওয়া মেয়েটি সরল বিশ্বাসে নির্দেশ মেনে খাবার নিয়ে জালালের বাড়িতে যায়।খাবার পরিবেশন চলাকালীন হঠাৎ জালাল তার মেয়েকে ঝাপটে ধরে একপর্যায়ে মেয়েটি চিৎকার শুরু করলে জালালের আপন ভাই স্কুল শিক্ষক জুলফিকার ঘটনাস্থলে আসেন।এরপর দুই ভাই মিলে তার মেয়েকে ভভয়ভীতি ও মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রেখে মাদ্রাসায় যেতে বলেন।ছাত্রীটি মাদ্রাসায় ফিরে গিয়ে জামাকাপড় নিয়ে বাড়িতে চলে যান এবং পুরো শ্লীনতাহানির ঘটনাটি পরিবারকে জানান।বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বুধবার সন্ধায় এলাকাবাসী মাদ্রাসা ঘেরাও করে পরে এলাকাবাসী জালালের বাড়িতেও খুঁজাখুঁজি করে কিন্তু এরি মাঝে বড় হুজুর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। অভিযোগ করা হচ্ছে এ সময় জালালের দুই ভাই স্কুলশিক্ষক জুলফিকার ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল খালেক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্লীনতাহানির ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেস্টা করেন।তারা একাধিকবার ভিকটিমের পরিবারকে চাপ ও মীমাংসার প্রস্তাব দেন।ভিকটিমের বাবা আরও জানান অভিযুক্তদের পক্ষ্য থেকে বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় বসে বিষয়টি মিমাংসার প্রস্তাব দেন।তবে তারা শর্ত দেন ঘটনাটি পুলিশকে যেনো জানানো না হয়।কিন্তু পুর্বনির্ধারিত সময়ে একটি পক্ষ্য উপস্থিত থাকায় আলোচনা হয় নাই।শুক্রবার সকাল ১১ টায় আসাদ মেম্বরের উপস্থিতিতে আবারো মিমাংসার চেস্টা চালানো হয়।তবে ভিকটিমের বাবা স্পস্টভাবে জানিয়ে বলেন আমি মিমাংসা চাইনা আমি আমার মেয়ের শ্লীনতাহানির বিচার চাই।
ওই মাদ্রাসার আরো কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়,বড় হুজুর জালাল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিজ বাড়িতে নানা অজুহাতে নিয়ে যেতেন।কখনো অসুস্থতার কথা বলে কখনো কোন কাজ করানোর নাম করে।শুধু তাই নয় জালালের মেয়ে যিনি নিজেও ওই মাদ্রাসার শিক্ষিকা।বাবা ও মেয়ে মিলে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ঘর মোছা রান্নাবান্না ময়লা পরিস্কার সহ যাবতিয় কাজ করান।ছাত্রীর পড়াশুনা বন্ধ করে তাদের কাজ করে দিতে বাধ্য হত।এদিকে এঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পরে। এ সময় এলাকাবাসী অভিযুক্ত বড় হুজুর জালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। এ বিষয়ে বড় হুজুর জালালের সাথে যোগাযোগের চেস্টা করে ব্যর্থ হয়।এ বিষয়ে বড় হুজুর জালালের ভাই আব্দুল খালেক অভিযোগ করেন তাদের বাড়িতে শতাধিক ব্যক্তি হামলা চালায়,এই ঘটনার ভিতরে তাদের অন্য উদ্দেশ্য আছে কাদের নামের এক ব্যক্তি পক্ষটিকে ইন্ধন দিচ্ছে।তিনি অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে মিমাংসার জন্য চাও দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। জানা যায় ছাত্রি শ্লীনতাহানির বিষয়ে মেয়েটির পরিবার এখনো থানায় অভিযোগ দেয় নাই।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->