আজ - সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি, (শরৎকাল), সময় - দুপুর ১:১৮

যশোর শার্শায় আওয়ামীলীগ কর্মী মিন্টুকে ২ পা ও ১ হাত পিটিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

যশোরের শার্শা উপজেলায় এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্মম ও বর্বরোচিতভাবে পিটিয়ে দুই পা এবং একটি হাত ভেঙে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এই শিউরে ওঠার মতো নৃশংস নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে।

গুরুতর আহত ওই ব্যক্তির নাম মিন্টু (৪০)। তিনি রামপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে হাত-পায়ে ব্যান্ডেজসহ অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আক্রান্তের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তের দল হঠাৎ মিন্টুর রামপুর গ্রামস্থ বসতবাড়িতে চড়াও হয়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা মিন্টুকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে তাঁর ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।

দুর্বৃত্তরা পিটিয়ে মিন্টুর দুটি পা এবং বাম হাতটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে দুর্বৃত্তরা তাকে স্থানীয় একটি স্কুল মাঠে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে স্থানীয় পথচারীরা স্কুল মাঠে মিন্টুকে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল করে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। পুলিশ প্রথমে তাকে স্থানীয় নাভারণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

মিন্টুর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে মিন্টুকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ও চিহ্নিত অপরাধীর নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে পরিবারটি এজাহার নামীয় মামলা রুজু করার জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শার্শা থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, “৯৯৯ থেকে তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। এই নৃশংস হামলার ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরো সংবাদ
যশোর জেলা
ফেসবুক পেজ
সর্বাধিক পঠিত
-->