
যশোরের চৌগাছায় নূরী বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূ হাতের তালু ও কাগজে চিরকুট লিখে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার বেলা ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘরের আঁড়া থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে প্রতিবেশীরা।
ওই গৃহবধূ উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের টেঙ্গুরপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। দিনমজুর শহিদুল ইসলাম চৌগাছা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হালদারপাড়ার বাসিন্দা হলেও স্ত্রীকে নিয়ে টেঙ্গুরপুর গ্রামে একটি টিনসেডের বাড়ি করে বসবাস করতেন।
নূরীর স্বামী শহিদুল ইসলাম জানান, প্রায় ১২ বছর আগে তিনি মহেশপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের নূরীকে বিয়ে করেন। ১২ বছরে তাদের ঘরে কোনো সন্তান জন্ম না নিলেও এনিয়ে তাদের কোনো আক্ষেপ ছিলো না। শহিদুল আরও জানান, কয়েকমাস আগে তার পোষা একটি ছাগলের অসুখ হয়। সেটির চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী হাজরাখানা গ্রামের আসাদ নামে এক গ্রাম্য পশু চিকিৎসক তার বাড়িতে আসেন। এরপর থেকে আসাদের সাথে তার স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক হয়। বিষয়টি নিয়ে মনোমালিণ্য হলে স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে যান।
তিনি জানান, সেখান থেকে সপ্তাহ খানেক আগে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে ডিভোর্স লেটার পাঠায় নূরী। তবে তিনি ডিভোর্স লেটারটি গ্রহণ করেন নি। পরে তিনি নূরীর বাবার বাড়িতে গেলে নূরী শুক্রবার (৩১মে) সন্ধ্যায় তার সাথে বাড়িতে চলে আসে। শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি চৌগাছা বাজারে নিজের কর্মস্থলে চলে যান। সেখানে যাওয়ার পর প্রতিবেশীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনে সংবাদ পান স্ত্রী নূরী ঘরের আঁড়ার সাথে ঝুলছে। বাড়ি ফিরে দেখেন প্রতিবেশীরা নূরীর লাশ নামিয়ে ঘরের বারান্দায় রেখেছে।
শহিদুল আরও বলেন, এরপর দেখি নূরীর বাম হাতের তালুতে এবং একটি কাগজে লাল কালি দিয়ে লেখা ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। সন্তান না হবার কারণে আমি গলায় দড়ি দিলাম। একই কাগজের অন্য প্যারায় লেখা, ‘দুনিয়া বড় কঠিন আমি সব কিছু ছেড়ে চলে গেলাম’। বাম হাতের তালুতে লেখাÑ ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। সবাই ভালো থেকো। আমি নরক বেছে নিলাম’।
শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার কাছে সে একাধিক বার বলেছে ‘আমি আসাদ ডাক্তারকে ভালোবাসি, আমি তাকে বিয়ে করবো। ডাক্তার আমাকে চৌগাছার দোতলা (চৌগাছা শহরের নিরিবিলি পাড়ায় আসাদ একটি দ্বিতল বাড়ি করেছেন) বাড়িতে রাখবে। সে আমাকে ডিভোর্স লেটারও পাঠিয়েছে। কিন্ত আমি নিইনি। আমিতো ওকে ১২ বছর ধরে ভালোবাসি।’
স্থানীয়রা বলেন শহিদুল নিরীহ ছেলে। চৌগাছা শহরে একটি পানের দোকানে কাজ করে। পশু চিকিৎসক আসাদ ওদের সংসারটা শেষ করে দিলো।
পশু চিকিৎসক আসাদের পরিবারের একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই নারী (নূরী) তার পরিবারের বিভিন্ন সদস্যকে মোবাইল করে বলেন, আমি আসাদকে বিয়ে করেছি। আসাদের পরিবারের সদস্যরা তার কাছে বিয়ে এবং আগের স্বামীর সাথে ডিভোর্সের কাগজপত্র চাইলে তিনি দেখাতে পারেন নি। এরপরই তিনি শহিদুলকে ডিভোর্স লেটার পাঠান। পরিবারের ওই সূত্রটি আরও জানায়, আসাদের প্রথম ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। তবে প্রথম স্ত্রী অসুস্থ।
এ বিষয়ে আসাদের গ্রাম হাজরাখানার ইউপি সদস্য মনিরুজ্জামান মিলন ও টেঙ্গুরপুর গ্রামের ইউপি সদস্য জাকির হোসেন খান বলেন, পশু চিকিৎসক আসাদের সাথে নূরীর পরকীয়ার বিষয়টি শুনেছি।
চৌগাছা থানার এসআই মাহফুজুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হবে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।